আমি জানি সে তার প্রতিকৃতকে আজও ভুলতে পারেনি....না এই গল্পের নায়িকার কথা বলছি না,সে হল এই
গল্পের নায়কের কথা,.......যাকে তার প্রেম বিনিময়ের জন্য মানবতার যে হিংস্র রূপ তা দেখতে হয়েছিল......
তার নামছিল সোম,অত্যন্ত সাধারণ পরিবারের এক ছেলে..... আর্থিক অনটনের সত্বেও কেবল মাত্র মেধার জোরে সবে সে এম.এ. পাশ করেছে.....বুকে একরাশ আশা নিয়ে ভর্তি হয়েছিল এম.এ. তে।সে জানত এই সমাজের চাকুরির কি ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি।তবুও সে দুচোখে আশার আলো দেখার সুযোগকে বিন্দু মাত্র উপায়েও ছাড়তে চায় না।কারন সে লিপীর কাছে প্রতিজ্ঞা বদ্ধ।সরি লিপীর পরিচয় দেওয়া হয়নি,লিপী হলো সোম এর প্রেমিকা,যাকে জীবন সঙ্গী হিসাবে পাওয়ার জন্য সোমের এত প্রচেষ্টা,লিপী আর সোমের প্রেম শুরু যখন তারা কলেজে ভর্তি হয়...একই টিউশন স্যারের কাছে ভর্তি হয়।তার আগে তারা প্রেম মানে বুঝলেও অনুভব করেনি। বেশ পাঁচ পাঁচটা বছর তাদের প্রেম চললো....এবার তাদের পরিনতির দিকে এগিয়ে চলার কথা।
সোম তার মাকে সবাটায় জানিয়েছে,কিন্তু বাবাকে জানাতে পারেনি,কারন তার বাবা এসব কখনোই মেনে নেবে না।তার বাবা বিশ্বাস করে নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের প্রেম সমাজের চোখে সস্তা আস্ফালন মাত্র।সোমের মা সোমকে সরাসরি জানিয়ে দিয়েছে....যদি সে কিছু করতে পারে তাহলে ব্যাপারটা তার বাবার কান পর্যন্ত তুলবে....এদিকে লিপীরও বয়স ২৩ হতে চললো।সাধারনতগ্রামে মেয়ের ২০ টা নাকি বিবাহের উপযুক্ত বয়স।তার বেশি হলে ওটা আর ততটা গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয় না।এদিকে লিপীর বাবা লিপীকে ইতিমধ্যেই দুবার বর পক্ষের সামনে বসিয়েছে,লিপী নানান অযুহাতে প্রস্তাব বাতিল করিয়ছে।সে সোমের একটা যে কোনো ছোটো খাটো কাজের অপেক্ষায় আছে...সোম কাজ পেয়ে গেলেই সে তৎক্ষনাৎ বাড়িতে জানিয়ে দেবে সোম আর তার ব্যাপারটা,এদিকে বারবার পাত্রপক্ষের প্রস্তাবে অসম্মতি জানানো মেয়েটি বাবার চোখে ধরা পড়ে,সব কিছু জানাজানি হয়ে যায় উভয় পরিবারেই।সমস্যার মেঘ ঘনীভূত হয় সোম-লিপীর ভালোবাসার ভালোথাকার আকাশে।লিপীর বিয়ে ঠিক করে দেয় বাড়ি থেকে।হাজার অনিচ্ছা সত্বেও বিয়ে করতে বাধ্য হয় লিপি,বাবার পছন্দ করা পাত্রের সাথে।বছর ঘুরতে না ঘুরতেই লিপী নতুন সদস্যকে পরিবারে স্বাগত জানায়।তারপরও কিন্তু বিন্দুমাত্র ভালোবাসা কমেনি সোমের প্রতি।সোমও এখন অনেকটাই নিজেকে সামলে নিয়ে এগোচ্ছে ভবিষ্যতের দিকে.....
বছর পাঁচেক পর হঠাৎ করেই দেখা হয় সোম-লিপীর । লিপীর কপালে লাল টিপ বারবার রক্তাক্ত করেদিচ্ছিল সোমের অনেক কষ্টে জোড়া লাগা হৃদয়।সেদিন লিপী জানতে পারল যে সোমও নতুন জীবনে পা রাখতে চলেছে,এখন সোম টিউশন পড়িয়ে বেশ ভালো রকম টাকা পয়সা করে ফেলেছে,নতুন সম্পর্কে গাঁটছড়া বাঁধবে সোম।সোমের বিয়ে হল।হয়ে গেল একটা বছর সোমের দাম্পত্য জীবন।মোটামুটি সুখের ছায়া দেখতে না দেখতেই অন্ধকার গ্রাস করে তার জীবন।সোম এক দুর্ঘনায় বিপত্নিক হয় ।এখন সোম দিগ্বিদিক জ্ঞান শূন্য হয়ে অন্ধকার কোনে আশ্রয় নিয়েছে।সর্বশক্তিমান ঈশ্বরও যেন সোমের প্রতি এ কেমন পরিহাস করে চলেছে।অন্যদিকে লিপীকেও পরিবারের আর্থিক অনটনের কারণে একটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে কাজ গ্রহন করতে হয়।ভাগ্য যেন লিপী-সোমের সহায় হয়।লিপী যেখানে কাজ নিয়েছে সেখানেই সোমকে সুস্থতার আশায় ভর্তিকরা হয়।লিপী সবটা জানার পর ভেঙে পড়েনি,সোমকে সুস্থ করার প্রাণ পণ চেষ্টা চালায়।থেমে থাকেনি সে।কেউ ভাবতে পারেনি এমনটাও ঘটতে পারে।লিপী সংসারের সাথে সাথে কর্মক্ষেত্রেও সমান পারদর্শীতা দেখায়,এমনকি মানসিক ভারসাম্যহীন সোমকেও নিয়মিত পরিচর্যা করতে থাকে।আজ সোম সম্পূর্ণ রূপে সুস্থ ।কিন্তু লিপী জানেনা,কারণ সোম লিপীর সাহচর্য পাওয়ার জন্য এখনও পাগলের কৃত্রিম নাটক করে চলেছে।এখনও একই ভাবে চলছে তাদের এই অসমাপ্ত গল্প।আর সোমের লম্বা লম্বা চুল দাঁড়ি গোঁফের প্রতিকৃতের আড়ালে আজও লুকিয়ে আছে অপরিণত ভালোবাসা